WBPSC CLERKSHIP RECRUITMENT 2026
পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC) ক্লার্কশিপ পরীক্ষা ২০২৪-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যার মাধ্যমে রাজ্য সরকারের সেক্রেটারিয়েট, ডিরেক্টরেট, জেলা অফিস এবং রিজিওনাল অফিসে লোয়ার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট (LDA) বা লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (LDC) পদে নিয়োগ করা হবে। বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১২/২০২৪ অনুযায়ী, আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। নিচে এই নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
পদের নাম, শূন্যপদ ও বেতনক্রম
পরীক্ষার নাম: ক্লার্কশিপ এক্সামিনেশন, ২০২৪।
শূন্যপদের সংখ্যা: মোট শূন্যপদের সংখ্যা পরবর্তীতে কমিশনের তরফ থেকে ঘোষণা করা হবে এবং সমস্ত নিয়োগ প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ভিত্তিতে করা হবে।
বেতনক্রম (Scale of Pay): রোপা (ROPA) ২০১৯ অনুযায়ী লেভেল ৬ বেতনক্রম প্রযোজ্য হবে। এর ফলে মূল বেতন হবে ২২,৭০০ টাকা থেকে ৫৮,৫০০ টাকা। এর পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী ডিএ (D.A.), এমএ (M.A.) এবং এইচআরএ (H.R.A.) পাওয়া যাবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা
সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নিম্নলিখিত যোগ্যতাগুলি থাকতে হবে:
প্রার্থীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বা সমতুল্য বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
কম্পিউটার পরিচালনায় প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে।
কম্পিউটারে ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে অন্তত ২০টি শব্দ অথবা বাংলায় প্রতি মিনিটে অন্তত ১০টি শব্দ টাইপ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। আবেদনের সময় প্রার্থীকে ভাষা নির্বাচনের বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।
বয়সসীমা ও বয়সের ছাড়
বয়সসীমা: ০১.০১.২০২৪ তারিখের হিসাবে প্রার্থীর বয়স ১৮ বছরের নিচে এবং ৪৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। অর্থাৎ প্রার্থীর জন্ম ২ জানুয়ারি ১৯৭৯ সালের আগে এবং ১ জানুয়ারি ২০০৬ সালের পরে হলে চলবে না।
বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে শুধুমাত্র মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকা জন্মতারিখই গ্রহণ করা হবে।
বয়সের ছাড়:
পশ্চিমবঙ্গের এসসি (S.C.) এবং এসটি (S.T.) প্রার্থীরা সর্বোচ্চ বয়সসীমায় ৫ বছরের ছাড় পাবেন।
পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি (O.B.C. Non-creamy layer) প্রার্থীরা সর্বোচ্চ বয়সসীমায় ৩ বছরের ছাড় পাবেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধী বা PwBD (৪০% বা তার বেশি) প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।
প্রাক্তন সেনাকর্মীদের (Ex-Servicemen) ক্ষেত্রেও নিয়ম অনুযায়ী বয়সের ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে, যদি তাঁরা সেনাবাহিনীতে অন্তত ছয় মাস একটানা কাজ করে থাকেন।
অন্য রাজ্যের এসসি, এসটি বা ওবিসি প্রার্থীরা সাধারণ (General) প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং কোনো বয়সের ছাড় পাবেন না।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী
প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে (স্বাভাবিক বা রেজিস্ট্রেশন দ্বারা) অথবা ভারত সরকার দ্বারা যোগ্য ঘোষিত অন্য কোনো দেশের নাগরিক হতে হবে।
প্রার্থীকে বাংলা ভাষা পড়তে, লিখতে এবং বলতে জানতে হবে। তবে যাদের মাতৃভাষা নেপালি, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যাদের মাতৃভাষা বাংলা বা নেপালি নয়, নিয়োগের আগে তাদের বাংলা ভাষার জ্ঞান পরীক্ষা করা হবে এবং পারফরম্যান্স খারাপ হলে প্রার্থিপদ বাতিল হতে পারে।
নির্বাচন পদ্ধতি ও পরীক্ষার ধরন
পরীক্ষাটি দুটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে:
পার্ট-১ (Part-I): এটি অবজেক্টিভ টাইপ (MCQ) পরীক্ষা হবে।
পার্ট-২ (Part-II): এটি ডেসক্রিপটিভ বা কনভেনশনাল টাইপ লিখিত পরীক্ষা হবে।
প্রাথমিকভাবে পার্ট-১ পরীক্ষা নেওয়া হবে। পার্ট-১ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সীমিত সংখ্যক প্রার্থীদের পার্ট-২ পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে। পার্ট-১ এবং পার্ট-২ উভয় পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই প্রার্থীদের কম্পিউটার পরিচালনা এবং টাইপিং দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হবে।
নেগেটিভ মার্কিং: পার্ট-১ (MCQ) পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে।
নম্বর কাটা (Penalty): পার্ট-২ পরীক্ষার উত্তরপত্রে প্রার্থীর নাম, রোল নম্বর বা অন্য কোনো পরিচায়ক চিহ্ন দিলে সেই পেপারের প্রাপ্ত নম্বর থেকে ১০% নম্বর কেটে নেওয়া হবে।
টাই-ব্রেকিং নিয়ম (Tie Breaking Principles)
একাধিক প্রার্থীর নম্বর সমান হলে নিম্নলিখিত নিয়মে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে:
ইংরেজি ও বাংলা/হিন্দি/উর্দু/নেপালি/সাঁওতালি ভাষায় প্রাপ্ত মোট নম্বর যার বেশি তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তারপরেও টাই থাকলে, ইংরেজিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তাতেও টাই থাকলে, বয়সের দিক থেকে প্রবীণ প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
যোগ্যতা অর্জনের ন্যূনতম নম্বর (Qualifying Marks)
কমিশন পার্ট-১ ও পার্ট-২ মিলিয়ে একটি ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জনের নম্বর (কাট-অফ) নির্ধারণ করেছে:
জেনারেল (UR) এবং EWS: ৪০%
ওবিসি (OBC): ৩৮%
এসসি (SC): ৩৫%
এসটি (ST), PwBD এবং প্রাক্তন সেনাকর্মী: ৩০%
কৃতী খেলোয়াড় (Meritorious Sports Person): ৪০%
আবেদন ফি
সাধারণ ও ওবিসি প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ১১০ টাকা এবং এর সাথে প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। ফি শুধুমাত্র অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে।
পশ্চিমবঙ্গের এসসি, এসটি এবং ৪০% বা তার বেশি মাত্রার শারীরিক প্রতিবন্ধী (PwBD) প্রার্থীদের কোনো আবেদন ফি দিতে হবে না। তবে অন্য রাজ্যের এসসি/এসটি প্রার্থীদের সম্পূর্ণ ফি দিতে হবে।
PSC CLERKSHIP EXAM: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
EWS, SC, ST, OBC, PwBD, এবং প্রাক্তন সেনাকর্মী বা স্পোর্টস কোটায় আবেদনকারী প্রার্থীদের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইস্যু করা বৈধ শংসাপত্র থাকতে হবে।
আবেদনের সময় একটি ফটো আইডি কার্ডের বিবরণ দিতে হবে, যেমন- ছবিসহ মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড (EPIC), ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সরকার স্বীকৃত অন্য কোনো পরিচয়পত্র। পরীক্ষার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রে এই অরিজিনাল পরিচয়পত্রটি নিয়ে যেতে হবে।
সংরক্ষিত শ্রেণীর প্রার্থীদের আবেদনের সময় পিডিএফ ফর্ম্যাটে (১০০ কেবি-এর নিচে) কাস্ট/ক্যাটাগরি সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে, অন্যথায় আবেদন গ্রাহ্য হবে না।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (PwBD) প্রার্থীদের জন্য সুবিধা
যাদের লেখার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, তারা প্রয়োজনে ‘স্ক্রাইব’ (Scribe) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রার্থীদের নিজস্ব স্ক্রাইব নিয়ে আসতে হবে এবং স্ক্রাইবের শিক্ষাগত যোগ্যতা পরীক্ষার্থীর যোগ্যতার থেকে এক ধাপ নিচে হতে হবে। যথাযথ প্রমাণপত্র (APPENDIX-I) দেখালে এই প্রার্থীরা প্রতি ঘণ্টায় ২০ মিনিট করে অতিরিক্ত সময় (Compensatory time) পাবেন।
পরীক্ষা কেন্দ্র (Exam Centers)
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মোট ৩৬টি কেন্দ্রে পার্ট-১ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কলকাতা (১১), বারুইপুর (১২), ডায়মন্ড হারবার (১৩), ব্যারাকপুর (১৪), বারাসাত (১৫), হাওড়া (১৬), চুঁচুড়া (১৭), বর্ধমান (১৮), দুর্গাপুর (১৯), মেদিনীপুর (২০), তমলুক (২১), বাঁকুড়া (২২), পুরুলিয়া (২৩), ঝাড়গ্রাম (২৪), সিউড়ি (২৫), কৃষ্ণনগর (২৬), বহরমপুর (২৭), মালদহ (২৮), বালুরঘাট (২৯), রায়গঞ্জ (৩০), জলপাইগুড়ি (৩১), আলিপুরদুয়ার (৩২), কোচবিহার (৩৩), শিলিগুড়ি (৩৪), কালিম্পং (৩৫) এবং দার্জিলিং (৩৬)।
দার্জিলিং কেন্দ্রে শুধুমাত্র দার্জিলিং জেলার এসটি প্রার্থী এবং দার্জিলিং সদর, মিরিক ও কার্শিয়াং মহকুমার প্রার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবেন।
কালিম্পং জেলার প্রার্থীরা শুধুমাত্র কালিম্পং কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন।
পার্ট-১ পরীক্ষাটি আনুমানিক ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
অনলাইন আবেদন শুরুর তারিখ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬।
অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ (বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত)।
অনলাইনে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ (বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত)।
অ্যাপ্লিকেশন এডিট উইন্ডো (Edit Window): ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে ১ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত।
সতর্কীকরণ: একজন প্রার্থীর একাধিক আবেদনপত্র কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এর ফলে প্রার্থিপদ বাতিল হতে পারে। প্রার্থীরা কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://psc.wb.gov.in/ -এ গিয়ে লগইন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের আবেদনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন (Edit) করতে পারবেন। এই এডিট সুযোগটি শুধুমাত্র একবারই পাওয়া যাবে। নিয়োগ সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রার্থীদের উপরোক্ত ওয়েবসাইটে নজর রাখতে বলা হচ্ছে।
ℹ️ তথ্য যাচাই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি
WBBulletin প্রকাশিত প্রতিটি সংবাদ যথাসম্ভব নির্ভুল, নির্ভরযোগ্য এবং সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়।
তবে সরকারি চাকরি, শিক্ষা, পরীক্ষা, প্রকল্প, নিয়োগ, ফলাফল, ভর্তির বিজ্ঞপ্তি বা অন্যান্য সরকারি তথ্য সময়ে সময়ে সংশোধিত অথবা পরিবর্তিত হতে পারে।
তাই আবেদন, নিবন্ধন বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং মূল বিজ্ঞপ্তি অবশ্যই যাচাই করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
কোনো তথ্যগত ভুল বা অসঙ্গতি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে আমাদের Contact Us পেজের মাধ্যমে জানান।





[…] PSC Clerkship 2026 Notification Out […]